মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

রাজধানীর হাতিরঝিল: অনুমোদন ৪১ গেটের, বাস্তবে আছে ৬৮

রাজধানীর অন্যতম নান্দনিক স্থান হাতিরঝিলের সৌন্দর্য নষ্ট করছে কিছু অবৈধ গেট। পরিকল্পনাহীন এসব গেট বিভন্ন ধরনের অপরাধের সুযোগ করে দিচ্ছে। ঝুঁকি তৈরি করছে সড়ক দুর্ঘটনার। এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে।

হাতিরঝিল এলাকায় রাজউকের তালিকা অনুযায়ী ৪১টি গেটের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে রয়েছে ৬৮টি গেট ও পকেট গেট। পকেট গেটগুলোর সরু গলি দিয়ে বাসিন্দাদের অবাদ চলাচলের কারণে আইন-শৃঙ্খলা ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কর্তব্যে অবহেলার কারণে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজউকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হাতিরঝিলে ২২টি পকেট গেট ও ১৯টি গেটের অনুমতি রয়েছে। সে অনুযায়ী গেট ও পকেট গেট মিলিয়ে বৈধ গেট ৪১টি।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে রাজউকের তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। কিছু অবৈধ গেট ও পকেট গেট ক্রস চিহ্ন দিয়ে রাজউক শনাক্ত করেছে। অবৈধ বলে সন্দেহ করা কিছু গেটের মালিকরা বৈধ অনুমতি থাকার দাবি করায় সেগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। এর মধ্যে ৫২ নম্বর পকেট গেটটি অবৈধ বলে চিহ্নিত দেখা যায়। গেটের ভেতরের টিনশেড বাড়ির ব্যবস্থাপক শাহীন মোল্লা বলেন, পকেট গেটটি অনেক আগের। জায়গার মালিক নুরুল ইসলাম থাকা অবস্থায়ও ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর তিন মেয়ে এটি দেখাশোনা করছেন। গেটের অনুমতি নেওয়া আছে। তবে লিখিত কাগজ আছে কি না, সেটি আপাদের (মালিকের তিন মেয়ে) সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে। ’

পরে তিনি বলেন, ‘আমি কাগজ নিয়ে আপনাকে পাঠাব। ’ এর মধ্যে সপ্তাহখানেক সময় পেরোলেও কাগজ কোনো কাগজ পাঠাননি শাহীন।

বেগুনবাড়ী সংযোগ সড়কের একটু আগে দক্ষিণ কুনিপাড়া হাতিরঝিল অংশে পাটোয়ারি ভিলার পকেট গেট। ৪৮ নম্বর এই গেটও অবৈধ বলে চিহ্নিত গেটের বিষয়ে জানতে মালিক বা তাঁর পক্ষের লোকজনের সন্ধান করলেও পাওয়া যায়নি কাউকে। পরে ঘর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক রাহাত মিয়া বলেন, ‘মালিক তো এখানে নেই। তবে বাসার সব কিছু ঠিক আছে। গেটেরও অনুমোদন নেওয়া আছে শুনছি। আগে যারা হাতিরঝিলের দায়িত্বে আছিল, তারা দিছে। ’

উত্তর বেগুনবাড়ী বায়তুন নূর জামে মসজিদের মূল ফটকের আড়ালে এক ভবনের পকেট গেটও দেখা যায়। এভাবে অন্তত বাড়তি ২৭টি পকেট গেট রয়েছে হাতিরঝিলের চারপাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে। এসব গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বেশির ভাগ সময় মোবাইল ফোন ঘেঁটে বা বেঞ্চিতে ঘুমিয়ে অলস সময় পার করতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গলির মতো ছোট গেটগুলো দিয়ে সহজে বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে অবৈধ গেট থাকতে পারে। তবে সেটা রাজউকের বিষয়। এসব গেট থাকার কারণে অপরাধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুত্ না থাকলে বাসিন্দারা টিনের ঘরগুলো থেকে পরিবারসহ রাস্তার দুই পাশে এসে বসে থাকে। হুটহাট ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে এবং ঘটার পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজউক কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, তবে আমরা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। ’

হাতিরঝিল থানা সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে অন্তত ২০টি চুরি ও দুটি ছিনতাইয়ের বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। চলতি মাসে (অক্টোবরে) তালিকাভুক্ত হয়েছে একটি দুর্ঘটনা। বাস্তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরো বেশি বলে জানায় এলাকার লোকজন।

হাতিরঝিলের নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্বে থাকা (ইনচার্জ) আব্দুল মালিক বলেন, ‘রাতে একটু সমস্যা হয়। গভীর রাতেও কড়া পাহারা দিতে হয়। অনেকে পকেট গেট দিয়ে বের হয়ে হাতিরঝিলে এসে বসে। আবার বাইরের লোকও আসে। কে যে কী, বোঝা যায় না। এর মধ্যেই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর আসে। আমরা চেষ্টা করি যাতে এসব না ঘটে। ’

নাম প্রকাশ না করে রাজউকের একজন প্রকৌশলী বলেন, অতিরিক্ত গেট একদিকে যেমন হাতিরঝিলের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, তেমনি ভবঘুরেদের আড্ডার সুযোগ করে দিচ্ছে। আশপাশের ঘরগুলোর শিশুরা দিনভর রাস্তার আশপাশে খেলাধুলা করে। তাদের এলোপাতাড়ি ছোটাছুটিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের জানালে আমরা কী করতে পারি?’

সূত্র জানায়, নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানে থাকা আল-আরাফাহ্ সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক মনিরুজ্জামান তোফায়েলকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মনিরুজ্জামান তোফায়েল বলেন, ‘১০ কিলোমিটার জায়গার মধ্যে ২১টি পোস্ট রয়েছে। আমাদের ১৪৭ জন জনবল দেওয়া আছে। তাঁরা তিন শিফটে কাজ করেন। প্রতি শিফটে এই পোস্টগুলোতে ৪৭ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। কোনোটিতে তিনজন, কোনোটিতে চারজন করে দেওয়া হয়। আসলে হাতিরঝিলের আকার অনুযায়ী নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা কম। ’

এসব বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তালিকার বাইরের গেটগুলো আগের দায়িত্বশীলদের সময় করা। ’ এসব গেটের বৈধ কাগজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো কাগজ আমরা চাইনি। যেসব গেটের অনুমতির বিষয়ে কাগজ নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দায়িত্বে অপহেলা ও চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে আনিছুর রহমান বলেন, ‘এসব বিষয়ে আরো দু-একজন বলেছেন। আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব। ’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com